নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশি।। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছে বাংলাদেশ

0
1163
জর্জিয়া বাংলা ডেস্কঃ নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে আজ সোমবার সকালের দিকে বাস টার্মিনালে সন্ত্রাসী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এক বাংলাদেশি তরুণ আটক হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশী আকায়েদ

আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের পর এক ব্যক্তিকে গুরুতর আহতাবস্থায় গ্রেপ্তারের কথা নিউ ইয়র্ক পুলিশ কর্তৃক দ্রুত মূলধারায় মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

পরে নিউ ইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেমস ও নিল সাংবাদিকদের জানান, ২৭ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম আকায়েদ উল্লাহ। ওই যুবক ব্রুকলিনে থাকে এবং তিনি বাংলাদেশ থেকে সাত বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিল।

নিউ ইয়র্ক পুলিশ আরও জানায়, আকায়েদ তার দেহে বিস্ফোরক বহন করছিল এবং নিজেই তার বিস্ফোরণ ঘটায়। 

এই বিস্ফোরণে আকায়েদ ছাড়া আর চারজন আহত হয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে। তবে তাদের কারও অবস্থাই ততটা গুরুতর নয়।

নিউ ইয়র্কের সাবেক পুলিশ কমিশনার বিল ব্রাটন মনে করছেন, হামলাকারী আইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত।

তিনি এনবিসি নিউজকে বলেন, “গত সাত বছর ধরে সে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে এবং খুব সম্ভবত আইএসের নামে এ বিস্ফোরণে ঘটিয়েছে। তাই, অবশ্যই এটা সন্ত্রাসী হামলা এবং অবশ্যই পরিকল্পিত।”

নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেমস ও নিলও মনে করছেন, এটি সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনা।

গ্রেপ্তার আকায়েদকে গুরুতর অবস্থায় বেল ভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।

নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেছেন, “একটি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হয়েছিল। ভাগ্য ভাল যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি সফল হতে পারেনি।”

টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পাতাল স্টেশন থেকে যখন মানুষ উঠে আসছিল, তখন বিস্ফোরণটি ঘটে।

গণমাধ্যমে আসা আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, মুখে দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি পড়ে আছে, তার পেটে আড়াআড়ি লম্বা ক্ষতচিহ্ন। তার প্যান্ট মোটামুটি অক্ষত থাকলেও ক্ষতচিহ্নের উপরে শার্ট ও গেঞ্জি পুড়ে গেছে

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পড়ে থাকা ওই ব্যক্তিই গ্রেফতারকৃত আকায়েদ।

এদিকে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে এই ধরনের যে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের ‘জিরোটলারেন্সের’ কথা বলেছে বাংলাদেশ।

ওই হামলায় এক বাংলাদেশি যুবকের জড়িত থাকার কথা নিউ ইয়র্ক পুলিশ কর্তৃক ঘোষিত হবার পর ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিবৃতিতে দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই, তার ধর্ম কিংবা জাতীয়তা যাই হোক না কেন তাকে অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।”

“সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের যে জিরো টলারেন্স নীতি, তার প্রতি অঙ্গীকার থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের নিন্দার কথা বলা হয় ঐ বিবৃতিতে।

Print Friendly, PDF & Email