দুর্ঘটনায় নিহত মিজানের জানাজা আটলান্টায় হচ্ছেনা।। মরদেহ নিউইয়র্ক হয়ে স্বদেশে যাচ্ছে

0
477

রুমী কবিরঃ মেট্রো আটলান্টার শ্যাম্বলী শহরে নর্থ শ্যালোফর্ড রোডের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি যুবক মিজানের জানাজা আটলান্টায় না হয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার মরদেহ নিউইয়র্ক পাঠানো হচ্ছে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ১৯ বছরের তরুণ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া গত রোববার রাত এগারোটায় মেট্রো আটলান্টার শ্যাম্বলী শহরে নর্থ শ্যালোফর্ড রোডে গাড়ি চালিয়ে বাসায় ফেরার পথে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী মিজানের গাড়িতে বসা অপর আরোহী বন্ধু জনৈক শ্বেতাঙ্গ যুবককেও আশংকাজনক অবস্থায় এম্বুলেন্সে করে তাৎক্ষনিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

নিহত মিজান ভুঁইয়ার সহোদর ছোট এক ভাই আরিফুর রহমান এবং ছোট বোন ফারজানা আকতার ও তার স্বামী মোহাম্মদ নিজাম ও সর্বকনিষ্ঠা বোন ১১ বছর বয়েসী ইসরাত আটলান্টায় একই সাথে বসবাস করেন। বাবা আব্দুল লতিফ সরকার ও মা রেহানা আকতার ১৯৯৬ সালে লটারি ভিসায় অভিবাসী হয়ে আমেরিকায় এসেছিলেন, তবে তাঁরা কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে ফিরে যান এবং বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন।

এদিকে পুত্রের মৃত্যু সংবাদে ঢাকায় অবস্থানকারী বাবা-মা ছেলের মরদেহ স্বদেশে প্রেরণ করার অনুরোধ জানালে নিউইয়র্কে বসবাসকারী তিন মামা তাদের প্রয়াত ভাগ্নের মরদেহ আটলান্টা থেকে প্রথমে নিউ ইয়র্ক এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে প্রেরণ করার প্রয়োজনীয় উদযোগ গ্রহণ করেন।

ম্যানহাটানের বাসিন্দা বড় মামা মোহাম্মদ মিন্টু জর্জিয়া বাংলা ডট কমকে জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার মরদেহ আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক পোঁছাবে এবং নিউইয়র্কে ঐদিনই কিংবা পরদিন শুক্রবার জানাজা সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়া হবে এবং শুক্রবারেই মরদেহ দেশে প্রেরনের জন্যে বিমানে উঠানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে নিহত মিজনের জানাজা আগামী শুক্রবার জুম্মা নামাজের পর ডোরাভিলস্থ আত্তাকওয়া মসজিদে সম্পন্ন করার যে ঘোষণা পরিবার থেকে জানানো হয়েছিলো, সেটি আর সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন প্রয়াত মিজানের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ নিজাম।

মরদেহের সৎকার কাজে সংশ্লিষ্ট নিকটস্থানীয় বন্ধু বিপুল ভূঁইয়া জানান, আটলান্টায় ফিউনারেল হোমের সাথে যোগাযোগ করে আত্তাকওয়া মসজিদে জানাজার ব্যাপারে প্রস্তুতির সময় নিউ ইয়র্ক থেকে মরহুমের মামাসহ আত্মীয়স্বজন মরদেহ নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকা পাঠানোর ইচ্ছার কথা জানান এবং তারাই সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন।আটলান্টায় বসবাসকারী অপর মামা আমিনুল ইসলাম খোকন বলেন, মরদেহ দেশে পাঠানোর কাজে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটিও সহযোগিতা করছে।

মোহাম্মদ মিন্টু নিউইয়র্ক থেকেই আটলান্টার ডিকাব কাউন্টির পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পর তা আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি ফিউনারেল হোমে রাখার ব্যবস্থা করেন।

এদিকে প্রয়াত মিজানের মরদেহের সাথে ছোট ভাই আরিফ নিউ ইয়র্ক হয়ে এবং অন্যান্য দুই বোন ও ভগ্নিপতি আটলান্টা থেকে সরাসরি বাংলাদেশে যাচ্ছেন দাফন ও দোয়া মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশে।

প্রয়াত মিজানের দাফন তার পৈত্রিক নিবাস নোয়াখালী জেলার চাটখিলে সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে পরিবার থেকে।

প্রয়াত মিজানের চাচা চাটখিলের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিমও এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন বলে মামা মিন্টু জানান। তার তত্ত্বাবধানে গ্রামের বাড়ি চাটখিলে দাফনের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*