কানাডায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব সিলেট সম্মেলন

টরন্টোঃ সিলেটের ঐতিহ্য, গৌরব ও অহংকারকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে এবার কানাডার টরন্টোতে আয়োজন হতে চলেছে বিশ্ব সিলেট সম্মেলন। এ উপলক্ষে গত ১৩ জানুয়ারি স্থানীয় মিজান অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় ও প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে স্বাগতিক সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টো।

হলভর্তি অতিথিদের উপস্থিতিতে কানাডা ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর সংগঠনের সভাপতি দেবব্রত দে তমালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের আহ্বায়ক, সিলেটের কৃতি সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন দেশে বিদেশে’র প্রধান সম্পাদক নজরুল মিন্টো।

সভায় বক্তব্য রাখেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি রেশাদ চৌধুরি, ভোরের আলো সম্পাদক খন্দকার আহাদ, সংগঠনের উপদেষ্টা মুজিবুল হক মুজিব, রোটারি ক্লাব অব ড্যানফোর্থের সভাপতি মঈন চৌধুরি, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরি, সাবেক সভাপতি সাদ চৌধুরি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর সভাপতি রেজাউর রহমান, কানাডার সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ বিসিসিবির কর্ণধার রিমন মাহমুদ, গ্রেটার সিলেট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি শামসুর রহমান খালেদ, হবিগঞ্জ এসোসিয়েশনে সাধারণ সম্পাদক এবাদ চৌধুরি, বিয়ানিবাজার সমিতির সভাপতি টুনু মিয়া, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক জুমেল চৌধুরি প্রমুখ।

সভায় বক্তারা আসন্ন বিশ্ব সিলেট সম্মেলনকে সাফল্যমন্ডিত করতে সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রধান অতিথি ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিশ্ব সিলেট সম্মেলন ছিল একটি মাইল ফলক। জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার উদ্যোগে সমস্ত পৃথিবীতে ছিটিয়ে থাকা একটি অঞ্চলের মানুষের সমন্বয় ঘটেছিল ঐ সম্মেলনে। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাসরত সিলেটি পরিবারের ভিতরে শত বছরের ঐতিহ্যের বন্ধনে নুতন করে উদ্বুদ্ধ  করা। সিলেটের সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য, জীবনের মান এবং পরিবেশের উন্নতির প্রচেষ্টার একটি স্বপ্নের পথযাত্রা শুরু হয় এই সমন্বয়ের মাধ্যমে। বিশিষ্ট বরেণ্য ব্যক্তিত্বসহ দুইদিন ব্যাপী ঐ সম্মেলনে পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। সম্মেলনে নিজ খরচে বাংলাদেশের একটি বিরাট দল, ভারতের সিলেটি সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দসহ সকলের উপস্থিতি প্রমান করেছিল বিনা সুতায় বাধা রয়েছে সিলেটের জন্য ভালোবাসা। নিজেদের এবং প্রজন্মকে সংযুক্ত করা ছাড়াও আরেকটি প্রধান উদ্দেশ্যে ছিল নিজের অঞ্চলের জন্য দায়িত্ববোধ জাগিয়ে যে কোন আর্থিক সামাজিক, বা মানবিক সহায়তায় সিলেট অঞ্চলের উন্নতির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা এবং সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে সম্পুর্নভাবে পরিহার করে এগিয়ে চলা।

জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরিরা মহামিলন আর মানবতার জয়গান গেয়েছেন। সিলেটিরা বরাবরই অসাম্প্রদায়িক। এ ঐতিহ্যকে ধারণ করেই সিলেটিদের এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সম্মেলনে ভারত, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য কানাডা, জাপান, ফ্রান্স ও জার্মানি থেকে অতিথিরা এসেছিলেন; টরন্টো সম্মেলনে আরও বেশি দেশ এবং আরও বেশি অতিথিরা অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করছি।

বিশেষ অতিথি দেশে বিদেশে’র সম্পাদক নজরুল মিন্টো বলেন, সম্মেলনের নামে কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেন না হয়। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে হবে একটি ‘থিম’ নিয়ে। তিনি বলেন, সিলেটকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে বিভিন্ন ভাবে। সিলেটের পর্যটন শিল্পকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সিলেটিসহ বৃহত্তর সিলেটের অবদান এবং সিলেটের পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি তুলে ধরতে হবে। শিল্প-সংস্কৃতিতে সিলেটের অবদান তুলে ধরা আজ সময়ে দাবী। সিলেটের একশত কৃতি সন্তানের পরিচতি তুলে ধরে একটি ম্যাগাজিন বের করার ইচ্ছে তিনি প্রকাশ করেন।

Print Friendly, PDF & Email