গুলিতে নিহত রেজওয়ানের জন্যে সংগৃহীত সর্বমোট অর্থ আটান্ন হাজার ডলারেরও অধিক

0
348

রুমী কবিরঃ যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত রেজওয়ানের জন্যে প্রবাসীদের সংগৃহীত অর্থের পরিমান চূড়ান্ত করা হয়েছে গত সপ্তাহে। ডোরাভিলস্থ আত্তাকাওয়া মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চূড়ান্ত হিসাবের পর সর্বশেষ অর্থ রেজওয়ানের কর্মস্থলের সত্ত্বাধিকারী বিপুল ভূঁইয়া গত শুক্রবার বাংলাদেশে মরহুমের বাবা মোহাম্মদ শরীফুল্লাহ’র একাউন্টে প্রেরণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

চূড়ান্ত হিসেব অনুযায়ী সর্বমোট প্রেরিত অর্থের পরিমান দাঁড়িয়েছে ৫৮,৪০৭ ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাতচল্লিশ লক্ষ বাইশ হাজার চুয়াত্তর টাকা।

গুলিতে ব্রেন ডেথ অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার কয়েকদিন পর মৃত্যুবরণকারী রেজওয়ান। ছবিঃ সামাজিক মিডিয়া

স্মরণ করা যেতে পারে, গত ১০ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় গাড়িতে করে ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া (৩৫) ও ক্যাশিয়ার রেজওয়ান (২০) বাড়ি ফেরার প্রাক্কালে ডাউন টাউনে নিজ ষ্টোরের সামনে দুর্বৃত্তের অতর্কিত আক্রমনে গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাইফুল। পরে গুলিবিদ্ধ রেজোয়ানকে মুমর্ষ অবস্থায় গ্রেডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং ব্রেনডেথ অবস্থায় চার দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ডাক্তারগণ লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এরপর প্রয়াত রেজওয়ানের মরদেহ বাংলাদেশে নোয়াখালীর সোনাইমুরী অঞ্চলের আমিরাবাদ গ্রামে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়ার প্রাক্কালে আকস্মিকভাবে বাংলাদেশ থেকে টেলিফোনে বাবা তার জ্যেষ্ঠ পুত্রের মরদেহ আটলান্টায় দাফন করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। আর সেই প্রেক্ষিতে ২০ বছরের তরুণ রেজওয়ানের মরদেহ আটলান্টায় দাফন করা হয়।

রেজওয়ান চার মাস আগে বাংলাদেশ থেকে আটলান্টায় এসেছিল। তবে ইমিগ্রেশন ভিসার বৈধ কাগজ না থাকায় চল্লিশ হাজার ডলার ঋণ করে ব্রাজিল, মেক্সিকো হয়ে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে করে ছয় মাসের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হয়েছে তাকে। বাবা সৌদি আরবে কষ্টের কাজ করতেন। তাই রেজয়ান আটলান্টায় সাইফুলের ষ্টোরের কাজটি পাবার পরই সে নিয়মিত টাকা পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বাবাকে দেশে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। বাবা তাই স্বদেশে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন-আশার পরিসমাপ্তি টেনে রেজওয়ান চিরশয্যায় শায়িত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মাটিতে। চার ভাই বোনের মধ্যে রেজওয়ান ছিল তৃতীয় সন্তান এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল বড়।

দুর্বৃত্তের গুলিতে ঘটনাস্থলে নিহত সাইফুল। ছবিঃ পারিবারিক এ্যালবাম

এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের সর্বস্তরের অভিবাসী মুসলমানগণকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্যে মরহুম রেজওয়ানের বাবা মা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি জানান, তাঁর ছেলেকে হারালেও বিদেশের মাটিতে অগনিত মহানুভব মানুষের আন্তরিকতায় তিনি অভিভুত হয়েছেন। রেজওয়ানের বাবা মা সবার জন্যে প্রানভরে দোয়া করছেন বলে টেলিফোনে জানান।

এছাড়া নিজ গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী আটলান্টায় বসবাসকারী সুমনের নিকটজন আদনান সুমন ও কর্মস্থলের সত্ত্বাধিকারী বিপুল ভূঁইয়া পৃথক পৃথকভাবে অর্থ-দানকারী সকল সহৃদয় ব্যক্তি, সংগঠন, বন্ধু, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাসহ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email