আটলান্টায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বাংলাদেশি দীপংকরের মৃত্যু

0
691

রুমী কবিরঃ সাইফুল ও রেজওয়ানের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতেই দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ হারালেন আটলান্টার আরও এক বাংলাদেশি।

গত ১৪ অক্টোবর বেলা ১১ টার দিকে আটলান্টার ডাউন টাউনের পার্শ্ববর্তী ক্যাসকেট এভিনিউস্থ নিজ ব্যবসাস্থল  ভ্যারাইটি ষ্টোরে কর্মরত অবস্থায় দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুত্বরভাবে আহত হন দীপঙ্কর দাশ (৫৬)। মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তাকে সংকটজনক অবস্থায় তাৎক্ষনিকভাবে গ্র্যাডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দীপংকরের গুলিতে আহত হবার খবরটি প্রথম জর্জিয়া বাংলা ডট কমকে জানান   বাংলাদেশি সঙ্গঠক ও চিকিৎসক ডা নাসিম। চার পাচঁদিন একটু সুস্থ হওয়ার অগ্রগতি লক্ষ করা গেলেও বারো দিনের মাথায় গত শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন দীপঙ্কর।

উল্লেখ্য, এই ঘটনার এক মাস আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর আটলান্টার ডাউন টাউনর জোসেফ বুলোবার্ডস্থ নিজ ব্যবসাস্থলের পার্কিং লটে সাইফুল (৩৫) দুর্বৃত্তের গুলিতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান এবং তার কর্মচারী রেজওয়ানও (২০) তার চারদিন পর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

গুলিতে আহত হওয়ার বারো দিন পর মৃত্যুবরণকারী দীপঙ্কর দাশ

দায়িত্বরত পুলিশ অফিসার এডাম লি বলেন, এক তরুণ বয়সের দুৰ্বৃত্ত ওই দোকানে ঢুকে দীপংকরকে গুলি করেছিল এবং ক্যাশ বাক্স থেকে সমুদয় অর্থসহ লটারির ক্রাচ টিকেট নিয়ে কেটে পড়েছে।
এদিকে আটলান্টা পুলিশ দুর্বৃত্তকে ধৱিয়ে দিতে দোকানের ভিডিও ক্যামেরা থেকে নেয়া ছবি বিভিন্ন জায়গায় ও দেয়ালে ঝুলিয়ে দিয়েছে এবং তাকে দেখা পাওয়া মাত্র ৪০৪ ৫৭৭ ৮৪৭৭ হট নাম্বারে কল করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দীপঙ্করের বাড়ি বাংলাদেশের সিলেটের মৌলভী বাজারে। প্রায় এক যুগ আগে অন্যান্য অনেকের মতোই ভাগ্যান্বেষণে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে আসেন। প্রবাস জীবনের অধিকাংশ সময়ই নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকায় কাটানোর পর গত চার চার বছর ধরে তিনি জর্জিয়ায় মুভ হয়ে আসেন এবং মেট্রো-আটলান্টার ডানওডি শহরে সপরিবারে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যাসহ আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

প্রয়াত দীপঙ্করের অনুজ ভাই বাবুল দাশ জানান, তার দাদা আটলান্টায় এসে ব্যবসায় উন্নতি করছিলেন এবং ছেলে-মেয়ে দুটিও স্কুলে ভালো রেজাল্ট করছে। ছেলেটি ইতোমধ্যেই প্রেসিডেন্ট অনার রোল এ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বলে দীপঙ্কর কয়েকদিন আগে নিউ ইয়র্কের এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন। দীপঙ্করের মা আটলান্টায় পুত্রের সাথেই বাস করছিলেন। পুত্রের মৃত্যুর খবরে বৃদ্ধা মা এখন নিথর ও দিশেহারা।

দীপংকরের মৃত্যুতে আটলান্টাসহ নিউইয়র্কের জামাইকায় প্রবাসী বাংলাদেশি মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ।

ঊল্লেখ্য, আটলান্টার ডাউন টাউন এলাকাসহ আশপাশে কম করে হলেও দশের অধিক বাংলাদেশি এধরনের নিজ ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছেন ।
জীবনের নিরাপত্তাসহ নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা চালাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরো তৎপর হওয়াৱ দাবী জানিয়ে বাংলাদেশি সঙ্গঠকদেরকে এগিয়ে আসা জরুরী বলে অনেকেই মনে করছেন।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*