বাড়িওয়ালার ছুরিকাঘাতে নিউইয়র্কের প্রিয়মুখ জাকির খানের জীবনাবসান

0
607

জর্জিয়া বাংলা ডেস্কঃ নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে বসবাসকারী কমিউনিটির পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির খান (৪৬) বাড়িওয়ালার ছুরিকাঘাতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিহত হয়েছেন (ইন্নাল্লিাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যাসহ প্রবাসে অগনিত আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী রেখে  গেছেন।  প্রয়াত জাকির স্ত্রী ন্যান্সী খানসহ সন্তান্দের নিয়ে ব্রঙ্কসের একটি এপার্টমেন্টে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছিলেন। স্ত্রী সন্তান ছাড়াও সিলেট অঞ্চলের ফেঞ্চুগঞ্জের কৃতিসন্তান জাকিরের ৭ ভাই ও ৫ বোন রয়েছে। ১৯৯২ সালে তিনি অভিবাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসেই বসবাস করছিলেন। জাকির খানের অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সিটি পুলিশ জাকির খানকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে তার মিশরীয় বাড়িওয়ালাকে আটক করেছে বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে।

জাকির খানের আকস্মিক এই খুনের ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা যত না শোকাহত, তাঁর চাইতে বেশি আচানক এই কঠিন ধাক্কায় হতবিহবল হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রবাসীরা খুনি মিশরীয় বাড়িওয়ালার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।

কমিউনিটির বিভিন্ন আলোচনায় এখন শুধু এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নানা রহস্য দানা বেঁধে উঠছে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন, ভিন দেশি অভিবাসী বাড়িওয়ালার হাতে সদালাপী জাকির খানকে কেন জীবন দিতে হল ?

ব্রঙ্কস পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ফোনকল পাওয়ার পর তারা ব্রঙ্কসের থ্রোগস নেক সেকশনের বাড়িটিতে যায়। এরপর তাঁকে দ্রুত তাকে স্থানীয় জ্যাকোবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। জাকিরের বুকে অন্তত সাতটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

কারো কারো মতে, বাড়িভাড়া নিয়ে জাকিরের সঙ্গে বাড়ির মালিকের বছর খানেক ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বাড়িভাড়া নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাক-বিতন্ডাও হয়েছিল বলে জানা যায়। জাকির খানের ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, মিসরীয় ওই মালিকের বাসায় জাকির দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া ছিলেন। তবে মালিকের অভিযোগ, জাকির বেশ কয়েক মাস ধরে ভাড়া দিচ্ছিলেন না, তিনি নাকি এপার্টমেন্টটি কিনতে চাইছিলেন।

জাকির আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে পরিচিত ছিলেন। ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার রিয়েল এস্টেট কোম্পানি নামে একটি ব্রোকার প্রতিষ্ঠান চালাতেন প্রয়াত জাকির। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপনের আয়োজনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল জাকিরের। দুদিন আগে ব্রঙ্কসে একুশ উদযাপনের কর্মসূচিতেও জাকির খানের ভূমিকা ছিল। প্রবাসীদের নানা দাবি নিয়ে আলোচনার সূত্র ধরে স্থানীয় কংগ্রেস সদস্য,সিনেটর ও অ্যাসেম্বলি সদস্যদের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। স্ত্রী ও সন্তানেরা জাকিরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় মুষড়ে পড়েছে। তারা সবার দোয়া চেয়েছেন।

আগামিকাল বাদ জুম্মা ব্রন্কসের পার্কচেষ্টার জামে মসজিদে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত নামাজের জানাজায় শরীক হওয়ার জন্যে সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। জানাজা শেষে জাকির খানের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে বলে পরিবার থেকে বলা হয়েছে।

Print Friendly