বাংলাদেশি শেখ রহমান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, জাতীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য হলেন

0
254

রুমী কবিরঃ মূলধারার রাজনৈতিক দলে এই প্রথমবারের মতো জাতীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস তৈরি করলেন একমাত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগঠক আটলান্টার অধিবাসী শেখ রহমান চন্দন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত প্রায় চার শতাধিক সদস্যদের অংশগ্রহণে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, শনিবার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান শহর আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে চন্দনের এই বিজয় রচিত হয়।

এই সম্মেলনে দিন ব্যাপী বক্তাদের আলোচনায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তথা ট্রাম্প প্রশাসনের নানা উদ্ভট ও নৈতিকতা বিরোধী বিধি-নিষেধ জারীর সমালোচনাসহ দলকে আরও শক্তিশালী করার দৃঢ় অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়। সেইসাথে ট্রাম্প প্রশাসনের যে কোন নেতিবাচক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তা মোকাবেলা করার ঘোষণাও প্রদান করেন ডেমোক্র্যাট নেতা-সংগঠকগণ।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান টম পেরেজ

সম্মেলনে এবারই প্রথম একজন হিস্পানিক বংশোদ্ভূত নেতা ও ওবামা প্রশাসনের শ্রমমন্ত্রী টম পেরেজকে সদস্যদের ভোটে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরই নব নির্বাচিত দলীয় প্রধান পেরেজ দলের যুগ্ম চেয়ারম্যান হিসেবে গঠনতন্ত্র মোতাবেক নিজ ক্ষমতাবলে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসম্যান কেইথ এলিসনকে মনোনীত করেন।

বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগঠক আটলান্টার অধিবাসী শেখ রহমান চন্দন এর আগে হিলারী ক্লিনটনের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার প্রাক্কালে আয়োজিত জাতীয় কনভেনশন উপলক্ষে জর্জিয়া রাজ্য থেকে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে সুপার ডেলিগেট ও সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।

নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান টম পেরেজ (বামে) ও যুগ্ম চেয়ারম্যান কেইথ এলিসনের (ডানে) সাথে নবনির্বাচিত কার্যকরী সদস্য শেখ রহমান।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কার্যকরী কমিটিতে রহমানের এই বিজয়ের ঘটনাটিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি তথা এশিয়ান নাগরিকদেরকে মূলধারার রাজনীতিতে উজ্জীবিত ও আরও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন।

নবনির্বাচিত জাতীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য হওয়ায় এখন থেকে শেখ রহমান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য অঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যসহ দক্ষিণাঞ্চলের মোট ১৪টি রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে দলের একটি সুত্র থেকে জানা গেছে। এইসব রাজ্যগুলি হচ্ছেঃ জর্জিয়া, অ্যালাব্যামা, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, টেনেসি, সাউথ ক্যারোলিনা, নর্থ ক্যারোলিনা, কেন্টাকী, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ভার্জিনিয়া, মিসিসিপি, লুজিয়ানা, ওকলাহামা ও আরকানসাস।

আটলান্টার মেয়র কাসিম রীডের (ডানে) সাথে শেখ রহমান (মাঝে)।

শেখ রহমান ওই সম্মেলনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কেইথ এলিসনকে সমর্থন ও ভোট দিলেও টম পেরেজ বিজয়ী হওয়ার পর এক বিবৃতিতে নতুন চেয়ারম্যানকে অভিনন্দিত করে তাঁর নেতৃত্বেই দলকে আরও সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ করতে এবং রিপাবলিকান পার্টি তথা ট্রাম্পের অনৈতিক এজেন্ডা সমুহের বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সেইসাথে জাতীয় কমিটির নবাগত কার্যকরী সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের স্বার্থ রক্ষায় দলের আদর্শ ও নীতিমালাকে অনুসরণ করে নিজেকে নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে সাধ্যমত আত্মনিয়োগ করবেন বলে ঘোষণা করেন।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নতুন কমিটির কর্মকর্তাগণ।

এদিকে শেখ রহমানের মূল ধারার রাজনৈতিক দলে কার্যকরী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবার খবরটি প্রচার হওয়ার পর পর প্রবাসের বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও আনন্দের বন্যা নেমে আসে। এছাড়া রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্ধু, স্বজন, শুভানুধ্যায়ীরা একের পর এক টেলিফোনে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন। এর জবাবে প্রতিশ্রুতিশীল এই ডেমোক্র্যাট নেতা সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর জন্যে দোওয়া করার অনুরোধ জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সাথে শেখ রহমান । ছবিঃ পারিবারিক আর্কাইভ।

উল্লেখ্য, শেখ রহমান চন্দন জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সভাপতি নাদিরা রহমানের সহোদর বড় ভাই। এর আগে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন নিয়ে ২০১২ সালে জর্জিয়া হাউজ ডিসট্রিক্ট-১৫০ আসনে হাউজ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ২০১৪ সালে স্টেট সিনেট-২০ আসনে স্টেট সিনেটর পদপ্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

 

 

 

 

Print Friendly