জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার প্রতিশোধ নিতে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করুন: ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান

0
35

ওয়াশিংটন: ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রবাসীদেরকে জাতির পিতার অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী- সমৃদ্ধ স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ এর জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। ৮ মে সোমবার ওয়াশিংটনে মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের আয়োজন এবং মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী যুবলীগ, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ও মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী মহিলা লীগের সহযোগীতায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস ও মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে যে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে তার প্রতিশোধ নেয়া হবে। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয় হলেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়ে যাবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শিব্বীর আহমেদ এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের সাধারন সম্পাদক এম নবী বাকী। সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আবদুস সামাদ আযাদ, কার্যকরী কমিটির সদস্যা শাহানারা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, সহ সভাপতি দুরুদ মিয়া রনেল, এবং যুগ্ম সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম রাজু, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবুল হোসেন শীকদার, সাধারন সম্পাদক খিজির আহমেদ টিটু, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সহ সভাপতি নুরুল আমিন নুরু, জিয়াউদ্দীন খান, আযম আজাদ, নুরুন নাহার মেরী, কামাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক গফুর আহমেদ সহ আরো অনেকে । এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর উপদেষ্টা রাশেদুল হাসান রজত, মোহাম্মদ নবী সহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত ৮ বছরে দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যবিমোচন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বৈদেশিক সম্পর্ক, ব্যবসাবাণিজ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ‘আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ‘রোল মডেল’। ২০২১ সালের আগেই আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করব, ইনশা-আল্লাহ।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় । মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। পাশাপাশি এদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন করা হয়। সেদিন থেকে এ স্থানটি ‘মুজিবনগর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।ঐতিহাসিক এ দিনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ চার জাতীয় নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেই সাথে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহিদ এবং ২ লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনকে। এ ছাড়াও সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী শুরু হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে । ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক দলসমূহ, সশস্ত্রবাহিনী, পুলিশ ও তদানীনতন ইপিআরসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকার দীর্ঘ নয় মাস দক্ষতার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মিত্রশক্তির সহায়তায় চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।’

স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে সমূলে ধ্বংস করার লক্ষ্যে আড়াই মাসের ব্যবধানে ৩ নভেম্বর জেলখানায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। জাতির পিতাকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার সামরিক স্বৈরাচারের বুটের তলায় পিষ্ট হচ্ছিল। জনগণের ভোটে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর দেশে আবারও গণতন্ত্র ফিরে আসে। বন্ধবন্ধু হত্যাকারীদের প্রচলিত আদালতে বিচার ও রায় কার্যকর করার মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতি দায়মুক্ত হয়েছে। জেলখানায় নিহত চার জাতীয় নেতা হত্যা মামলার বিচার করা হয়েছে। ’৭১-এর মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আবদুস সামাদ আযাদ ওয়াশিংটনে দলীয় শৃংখলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় করেন এবং আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি ষ্টেটে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ দলের সংগ্রামী সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে কাজ শুরু করেছে এবং আগামী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫শর অধিক নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহন করার যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আবদুস সামাদ আযাদ দলের চেইন অব কমান্ড অনুসরন করে নিজেদেরক ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Print Friendly