আটলান্টায় মা দিবসের প্রাণোচ্ছল আয়োজন

জর্জিয়াবাংলা প্রতিবেদনঃ প্রবাসের সকল মায়েদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে গত ১৪ মে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হল ‘মা দিবস’। উক্ত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন ব্যক্তিগতভাবে আটলান্টার পরিচিত দুই সংগঠক যথাক্রমে মোহন জব্বার ও শেখ জামাল। এছাড়া আয়োজকদ্বয়কে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন নেহাল মাহমুদ, মিনহাজুল ইসলাম বাদল, ইলিয়াস হাসান, কিউ জামান, শহিদুল ইসলাম ঠান্ডু, উত্তম দে, ভাস্কর চন্দ প্রমুখ। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন দিদারুল আলম গাজী।

উল্লেখ্য, এটি ছিল সমমনা এই গ্রুপটির দ্বিতীয়বারের মত আয়োজন।      বিভার রুইন রোডস্থ ইন্ডিয়ান গ্রিল রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এই মায়েদের প্রতি ভালোবাসার আবেগ আর আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ এই মা দিবসে আটলান্টায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মায়েদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন একটি ভিন্নমাত্রার ব্যঞ্জনা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। জর্জিয়া রাজ্যের দূর-দূরান্ত থেকে অনেককে ছুটে আসতে দেখা যায় সুন্দর মুহূর্তগুলোকে প্রাণ ভরে উপভোগ করতে।

অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে যেসমস্ত মায়েদেরকে পরম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার্ঘ জানানো হয়, তারা হলেনঃ রুনা জামাল, মুন্নি জামান, রোজ কেয়া, মিলা জাকারিয়া, লিটা, লুবনা, পারভীন, সপ্না, আঁখি, সীমা, আফরোজ জাহান, রেজয়ানা রুমু, ফারহানা শরীফ, লিজা, সুরুভী, মহিমা, দিলরুবা প্রমুখ।   

অনুষ্ঠানে আটলান্টার বেশ কিছু পরিচিত মুখের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এরা হলেনঃ নাসর সেবা সংগঠনের সভাপতি ডঃ আওয়াল ডি খান, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য শেখ রহমান চন্দন, এমএন্ডজে ফাউন্ডেশনের সভাপতি জামিল ইমরান, সংগঠক ও রম্যলেখক  লিয়াকত হোসেন আবু, বাংলাধারার সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, জর্জিয়াবাংলা ডট কমের সম্পাদক ও বাংলাধারার যুগ্ম-সমন্বয়ক রুমী কবির, মুজিব সেনা নিউজের সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি ও সংগঠক মোহাম্মদ আলী হোসেন, আটলান্টা সিনিয়র কেয়ার সেন্টারের সংগঠক গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া, দেশি ডেমোক্রাটসের সাধারণ সম্পাদক মামুন শরীফ, বাংলাদেশি আমেরিকান ডেমোক্রাটসের ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তফা জাহিদ টিটু, সংগঠক যথাক্রমে শাকুর মিন্টু, আবু নাসের মিলন, আবুল হাশেম, নুরুল তালুকদার, মারুফ ভূঁইয়া, সুভাষ চক্রবর্তী, কাজী আনোয়ারুল হক, স্বপন রায়, সেতু চক্রবর্তী, সুদীপ দে প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।  

আটলান্টায় এটিই ছিল বড় পরিসরের আয়োজন, যেখানে ছিল একটু ভিন্ন আঙ্গিক আর উৎসাহ উদ্দীপনার প্রাণোচ্ছল উচ্ছ্বাস। এটি ছিল একটি পারিবারিক মিলন মেলার মতোই মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক অভাবনীয় আয়োজন।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উপস্থিত মায়েদের এবং পৃথিবীর সমস্ত মায়েদের প্রতি “মা দিবস”-এর শুভেচ্ছা এবং শ্রদ্ধাঞ্জলী জানানো হয়। এরপর বেশ কয়েক জন মা তাদের অন্তরের অনুভূতি প্রকাশ করেন, সন্তান হিসেবে এবং নিজে একজন মা হিসেবে তাদের অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতির কথা উচ্চারণ করেন। এপর্যায়ে সবার বক্তব্যে যে বিষয়টি প্রতিধ্বনিত হয়েছে, তা ছিল মা যে অমুল্য ধন, পৃথিবীতে মায়ের চেয়ে যে আপন আর কেউ নেই, সেই সত্যটিই বেরিয়ে এসেছে।

অনেকে না ফেরার জগতে চলে যাওয়া মায়ের অনুপস্থিতির কথা বলতে গিয়ে বেদনার্ত চিত্তে আবেগপ্রবন হয়ে পড়েন। মা দিবসের এই সুন্দর আয়োজনটি অনেকের কাছেই দীর্ঘদিন মনের গহীনে গেঁথে থাকবে বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেন।

পরে পৃথিবীর সকল মায়েদের প্রতি শুভেচ্ছার নির্দশনস্বরূপ আনুষ্ঠানিক কেক কাটা ও নৈশ ভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

Print Friendly