যুক্তরাষ্ট্রের গ্রন্থে বিশ্ব নেতাদের তালিকায় শেখ হাসিনা

0
46

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের বর্তমান ১৮ জন নারী নেতাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত এক গ্রন্থে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অতীব গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শীর্ষক এ গ্রন্থের প্রচ্ছদে অপর ৬ জন বিশ্ব নেতার সঙ্গে শেখ হাসিনার ছবি মুদ্রিত হয়েছে, যেটি ইতোমধ্যেই অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশির নজরে এসেছে। গ্রন্থটির লেখক হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড ও’ ব্রেইন।

ওয়াশিংটন ডিসির ওমেন্স ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ক্লাবের (ডব্লিউএনডিসি) এক অনুষ্ঠানে বিদেশী কূটনীতিক, নারী নেত্রী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। লেখক এই গ্রন্থটিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রম, তাঁর জীবননাশের চেষ্টা এবং দেশটির তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই নারী নেত্রীর ঐতিহাসিক অর্জনসহ নানা তথ্য লিপিবদ্ধ করে পুরো তিন পৃষ্ঠা উৎসর্গ করেন।

ও’ব্রেইন বাংলাদেশকে অধিকতর স্থিতিশীল ও অধিকতর গণতান্ত্রিক এবং অপেক্ষাকৃত কম হিংসাত্মক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রয়াসের প্রশংসা করেন ওই লেখায়। এ প্রসঙ্গে এছাড়াও লেখক ‘বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই আমি গর্বিত হব’- শেখ হাসিনার এই বহুল সমাদৃত উক্তিটিও তাঁর গ্রন্থে সন্নিবেশিত করেন।

গ্রন্থে প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক পটভূমির উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। লেখক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ওই সময়ে শেখ হাসিনা ও তার বোন (শেখ রেহেনা) দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান।

ও’ব্রেইন ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগকে পরিচালনার নেতৃত্বের পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি নির্বাচনী কারচুপি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। সে সময় তাঁকে দমন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং ৮০’র দশকে তিনি গৃহবন্দী হন।

লেখক এরশাদ শাসনামলের উল্লেখ করে বলেন, সরকারের নির্যাতন সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এতই প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় ছিলেন যে, তাঁর চাপে ১৯৯০ সালে একজন সামরিক জান্তাকে পদত্যাগ করতে হয়। লেখক বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার ১৯৯৭ সালে যুগান্তকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ ও ক্ষুদ্র ঋণ সম্মেলনে সভাপতিকে সহায়তা ও নারী কল্যাণ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছেন।

রিচার্ড তার গ্রন্থে শান্তি ও গণতন্ত্রের বিকাশে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উল্লেখ করে বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) মাদার তেরেসা পদক ও গান্ধী পদক অর্জন করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email