আটলান্টায় শ্রীকান্ত সন্ধ্যা ১৪ অক্টোবর।। টিকেটের বাড়তি অর্থ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের প্রদান করা হবে

জর্জিয়া বাংলা ডেস্কঃ আগামী ১৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলা গানের স্বনামধন্য শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য্যের একক সংগীত সন্ধ্যা।

গুইনেট কাউন্টির বার্কমার হাই স্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনকে ঘিরে অগনিত শ্রীকান্ত ভক্ত দর্শক-শ্রোতা ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে অপেক্ষার প্রহর গোনার পালা শুরু হয়েছে।

দুই বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় এই শিল্পীর প্রাণ ছুঁয়ে যাওয়া গানগুলি উপভোগ করতে উৎসুক প্রবাসী বাঙালিদের অগ্রীম টিকেট ক্রয়ের তোড়জোড় চলছে গত কয়েকদিন ধরেই।

আয়োজক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবির কাওসার জানিয়েছেন, এবারে প্রতিটি আসনের নম্বর অনুযায়ী টিকেটে  ক্রমিক নম্বর বসানো হয়েছে। কাজেই ভালো ও সুবিধাজনক আসন পাবার ক্ষেত্রে আগেভাগে টিকেট ক্রয় করে আসন নিশ্চিত করে রাখাই উত্তম। অন্যদিকে ভিআইপি টিকেট সামান্য কয়েকটি এখনও অবিক্রিত রয়েছে বলে জানান কাওসার।

এদিকে আয়োজক গোষ্ঠীর অপর সংগঠক অসীম সাহা বলেন, এই আয়োজনটি অত্যন্ত পরিপাটি পরিবেশে নির্মল আনন্দের সন্ধ্যা হিসেবে দর্শকদের চিত্তবিনোদনে সাধ্যমত চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রয়াত রজব আলীর স্বপ্ন পূরণে তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রীন ডিজেবেলড ফাউন্ডেশনে উদ্বৃত্ত অর্থ প্রদান করার প্রত্যাশা রয়েছে।

উল্লেখ্য, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রজব আলী খান ১৯৯৭ সালে সিলেট শহরে অন্যান্য দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সাবলম্বী করে তুলতে গ্রীন ডিজেবেলড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠান করেন এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই সারা দেশের মানুষের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। রজব আলী নিজে অন্ধ হওয়ার অপর অন্ধদের সুখ দুঃখের সাথী হতে চেয়েছিলেন। তাই তাঁর প্রতিষ্ঠানটি অল্পদিনের মধ্যেই আশার আলো দেখতে শুরু করে। সম্প্রতি রজব আলী সকলকে কাঁদিয়ে চির বিদায় গ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্নের গ্রীন ডিজেবেলড ফাউন্ডেশনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা থেমে নেই। অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন এই আলোর পথযাত্রায়। কাজেই আটলান্টার শ্রীকান্ত সন্ধ্যার আয়োজকদের এই মহতী সিদ্ধান্ত ও প্রতিশ্রুতিও রজব আলীর স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে হবে অনেকের ধারনা।

শিল্পী শ্রীকান্তের সঙ্গে সুর ও বাদ্যযন্ত্রের পাঁচ চৌকশ বাদক।

শিল্পী শ্রীকান্তের সঙ্গে আরও আসছেন সুর ও বাদ্যযন্ত্রের পাঁচজন চৌকশ বাদক সুমন দাশ, শুভেন্দু শেখর দাশ, নরেন্দ্র চন্দ্র দে, দিপাঞ্জন রায় ও তন্ময় সেন।

শিল্পী শ্রীকান্তের ‘আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ বৃষ্টি তোমাকে দিলাম,‘আমি খোলা জানালা তুমি ঐ দখিনা বাতাস,‘কেনো দূরে থাকো’ ইত্যাদিবেশ কয়েকটি গান দুই বাংলা তথা সাড়া বিশ্বের অগনিত বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গান হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। শিল্পী মুলত রবীন্দ্র সংগীত ও আধুনিক মেলোডিপূর্ণ গান গাইতেই বেশি পছন্দ করে থাকেন।

কলকাতার বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান দক্ষিনী থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতে স্নাতক শ্রীকান্ত আচার্য সেই ছোটবেলায় তবলার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ওস্তাদ আলী আহমেদ খাঁর কাছে। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ‘মনের জানালা’ শিল্পীর প্রথম একক গানের অ্যালবাম। একই বছর প্রকাশিত হয় শিল্পীর ‘হে বন্ধু হে প্রিয়’ শীর্ষক প্রথম রবীন্দ্র সঙ্গীতের অ্যালবাম। এরপর ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় শিল্পীর ‘এক ঝাঁক পাখি’ শীর্ষক আরেকটি অ্যালবাম। পরবর্তীতে প্রকাশিত হয় ‘স্বপ্ন দেখাও তুমি’, ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’,‘নদীর ছবি আঁকি’,‘ঘুড়ি’,‘বেলুন’ প্রভৃতি গানের অ্যালবাম। এছাড়াও ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘তিতলি’ ছবির গান গেয়ে শ্রীকান্ত লাভ করেন বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস এসোসিয়েশন পুরষ্কার। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘খেলা’ আর ‘নৌকাডুবি’ ছবিতেও গান গেয়েছেন শ্রীকান্ত আচার্য।

শিল্পী শ্রীকান্ত স্মৃতিচারণের সময় বলেন, “আমি বাইরে গিয়ে যত শো করি তার আয়োজক কিন্তু ৬০ থেকে ৭০ ভাগ বাংলাদেশি। এরমধ্যে একটি ঘটনা না বললেই নয়। একবার অস্ট্রেলিয়া শো করতে গিয়েছিলাম। তো, শো শেষে এক ভদ্রলোক স্টেজে উঠে আমাকে একটি রুমাল দিয়ে মোড়ানো কৌটা গিফট করলেন। বললেন, বাসায় গিয়ে এটি খুলতে। বাসায় গিয়ে খুলে দেখি পিস করা পদ্মার ইলিশ। খুব অবাক হয়েছিলাম। পরে মাছগুলো ভেজে মজা করে খেয়েছিলাম। জীবনে অনেক উপহার পেয়েছি তবে এটা শ্রেষ্ঠ উপহার বলে মনে করি”।

নন্দিত সংগীত শিল্পী শ্রীকান্ত এভাবেই তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন সময় সুযোগ পেলেই।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*